হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর পূণ্যবতী স্ত্রীগণ

হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর পূণ্যবতী স্ত্রীগণ

১। হযরত খাদিজা রাঃ হযরত খাদিজা রাঃ এর সাথে রাসূল সাঃ এর বিবাহ হয়,যখন রাসূল সাঃ এর বয়স ছিল ২৫ বছর। আর হযরত খাদিজা রাঃ এর বয়স ছিল ৪০ বছর। হযরত খাদিজা রাঃ এর সাথে রাসূল সাঃ সংসার করেন ২৫ বছর। অর্থাৎ হযরত খাদিজা রাঃ এর ইন্তেকালের সময় রাসূল সাঃ এর বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। এই ২৫ বছরের মাঝে রাসূল সাঃ দ্বিতীয় কোন বিবাহ করেননি। ২৪ বছর বয়স পর্যন্ত নবী (সাঃ) অবিবাহিত ছিলেনঃ
— ২৫ থেকে ৫৩ বছর বয়স পর্যন্ত নবী সা: এর মাত্র একজন স্ত্রী ছিলেন
— ৫৩ থেকে ৬৩ বছর বয়সের মধ্যে নবীর সা: বাকি বিয়ে গুলো সম্পন্ন হয়।

২। হযরত সাওদা রাঃ হযরত খাদিজা রাঃ এর ইন্তেকালের পর সর্বপ্রথম রাসূল সাঃ বিয়ে করেন হযরত সাওদা রাঃ কে। যার স্বামী হিযরত করে হাবশা গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন। ফলে হযরত সাওদা রাঃ বিধবা হয়ে যান। তখন রাসূল সাঃ তার কষ্ট লাঘবের জন্য বিবাহ করেন।

৩। হযরত আয়শা রাঃ আয়েশা (রাঃ) ছিলেন মুহাম্মদ (সাঃ)এর বন্ধু হযরত আবু বকর (রাঃ) এর কন্যা। বিয়ের সময় আয়েশার বয়স ছিল মাত্র ৬ অথবা ৯ বছর। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী। আয়েশার স্মরন শক্তিও ছিল অসাধারন। হযরতআয়েশা (রাঃ)হুযুর সাঃ মৃত্যুর প র সবচেয়ে বেশী দিন বেচে ছিলেন এবং তিনিই স্ত্রীগনেরমধ্যে সবচেয়ে বেশী হাদীস বর্ননা ক রে গেছেন। এখন প্রশ্ন হল মুহাম্মদ কেন মাত্র ৬ অথবা ৯ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন? হযরত আবু বকর রাঃ তার কন্যা হযরত আয়শা রাঃ এর বিবাহ এক কাফির যুবায়ের বিন মুতয়িম এর সাথে ঠিক করা ছিল। কিন্তু তার পিতা সেই বিবাহ রদ করে দেয় এ শংকায় যে, তার ছেলে মুসলমান হয়ে যেতে পারে। এ ছিল পরিস্থিতি। মুসলিম কন্যাদের মুসলিমদের সাথে বিবাহ দেয়া ছাড়া কোন গত্যান্তর ছিল না। উক্ত বিবাহ নাকচ হয়ে যাবার পর হযরত আবু বকর রাঃ তার কন্যা আয়শা রাঃ এর সাথে রাসূল সাঃ এর বিবাহ দিয়ে দেন। মুহাম্মদ সাঃ আয়েশা রাঃ কে প্রাথমিক যে তিন কারণের জন্য বিয়ে করেছিলেনঃ ক) আবু বকর রাঃ সাথের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আত্মীয়তার মজবুত বাঁধনে পর্যবেশিত করে রাখা। খ) আয়েশা রাঃ ইসলামের বিধি বিধান শিক্ষা এবং তৈরী করা যাতে তিনি ইসলামের বিধি বিধানকে সংরক্ষণ, (বিশেষ করে নারীদের জন্য একান্ত বিষয়াদি) রাসুল সাঃ জীবন ইতিহাস, আল কোরআনের আয়াতের নাজিলের কারণ এবং মানুষকে তাঁর সঠিক শিক্ষাদান করতে পারেন। গ) উনাকে সে ভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল যাতে তিনি উনার সম্পূর্ণ সক্ষমতাকে ইসলামের জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

৪। হযরত হাফসা রাঃ হযরত উমর রাঃ এর কন্যা হযরত হাফসা রাঃ ও তার স্বামীর সাথে হিযরত করেন। কিন্তু তার স্বামীও ইন্তোকাল করেন। তখন হযরত উমর রাঃ তার কন্যাকে বিয়ে করার জন্য প্রথমে হযরত উসমান রাঃ কে, তারপর হযরত আবু বকর রাঃ কে অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা উভয়ে অস্বিকৃতি জানালে রাসূল সাঃ হযরত হাফসা রাঃ কে বিবাহ করেন।

৫। উম্মুল মাসাকীন হযরত যয়নব বিনতে খুজাইমা রাঃ যার স্বামী উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়ে যান। তারপর রাসূল সাঃ ৩য় হিজরীর রমজান মাসে বিবাহ করেন। মাত্র আটমাস তার বিবাহাধীনে থেকে বিয়ের পরবর্তী বৎসরেই ৪র্থ হিজরীর রবিউস সানি মাসে তার মৃত্যু হয়। শুধুমাত্র তিনি এবং খাদিজা এই দুজনই মুহাম্মাদ এর জীবদ্দশায় মারা যান। বিভিন্ন বর্ণনামতে, তিনি অত্যন্ত দানশীলা মহিলা ছিলেন। ইসলাম-পূর্ব যুগেও একারণে তাকে উন্মুল মাসাকীন (গরিবের মা) বলে ডাকা হতো।

৬। হযরত উম্মে সালামা রাঃ উম্মে সালামা হিন্দ বিনতে আবী উমাইয়্যা যার স্বামীও কাফিরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে হিযরত করেছিলেন। ৪র্থ হিজরিতে তার প্রথম স্বামী আবু সালামা এক যুদ্ধে শহীদ হন।অতঃপর রাসূল সাঃ উক্ত বিধবা নারী হযরত সালমা রাঃ কে বিবাহ করেন।

৭। রায়হানা বিনত যায়েদঃ রায়হানা বিনত যায়েদ ছিলেন বানু নাদির গোত্রের একজন ইহুদী নারী যিনি মুসলমানদের নিকট “উম্মুল মুমেনীন” (ইসলামের নবী মুহাম্মাদের স্ত্রী) হিসাবে সম্মাণিত।

৮। হযরত যয়নব বিনতে জাহাল রাঃ জয়নাব বিনতে জাহাল (রা.) : তিনি ছিলেন নবী (সা.)-এর ফুফাতো বোন। নবী (সা.) প্রথমে তাঁর এই বোনকে তাঁর পালকপুত্র জায়েদ (রা.)-এর সঙ্গে বিয়ে দেন। এই বিয়েতে গোড়া থেকেই জয়নাব (রা.)-এর আপত্তি ছিল। ফলে তাঁদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। পরে তাঁদের পারিবারিক জীবনে বিচ্ছেদ ঘটে। জয়নাব (রা.)-এর আপত্তিতে এ বিয়ে সংঘটিত হওয়ায় এবং পরে বিচ্ছেদ ঘটায় নবী (সা.)-এর মনে কিছুটা অনুশোচনা আসে। এ থেকে জয়নাব (রা.)-কে নিজে বিয়ে করার প্রস্তুতি গ্রহণ করলেও তত্কালীন আরবের কুসংস্কারের জন্য তা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। পরে পবিত্র কোরআনের সুরা আহজাবে আয়াত নাজিল হয়। সেখানে পালক ছেলে ও ঔরসজাত সন্তান সমতুল্য নয় বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে কুসংস্কার নির্মূল করার উদ্দেশ্যে নবী (সা.)-এর মাধ্যমে সেই বিধান বাস্তবায়ন করে দেখানোর প্রয়োজন অনুভূত হয়। তখনই জয়নাব (রা.)-এর সঙ্গে নবী (সা.)-এর বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

৮। জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিছ ইবনে আবি যারারঃ জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিছ ছিলেন বনু মুস্তালিক গোত্রের সঙ্গে দাঙ্গার ফলে আটক হওয়া যুদ্ধবন্দী, যিনি উক্ত গোত্রের সর্দারের কন্যা ছিলেন। তার স্বামী, মুস্তফা বিন সাফওয়ান, উক্ত দাঙ্গায় নিহত হন। নিয়মানুযায়ী জুয়াইরিয়া প্রাথমিকভাবে সাহাবী সাবিত বিন কায়েস বিন আল শাম্মাসের গনিমতের (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) ভাগে পড়েন। বন্দী অবস্থাতেই, জুয়াইরিয়া মুহাম্মাদ এর কাছে গিয়ে অনুরোধ করেন যে, গোত্রপ্রধানের কন্যা হিসেবে তাকে যেন মুক্তি দেয়া হয়, মুহাম্মাদ এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ইত্যবসরে, তার বাবা তাকে মুক্ত করতে মুহাম্মাদের কাছে মুক্তিপণ দেয়ার প্রস্তাব করলেন, কিন্তু মুহাম্মাদ উক্ত প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করলেন। এরপর হযরত মোহাম্মদ (সঃ) জুয়াইরিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এবং জুয়াইরিয়াও রাজি হলেন। যখন সবাই জানতে পারল যে বনু মুস্তালিকের সাথে ইসলামের নবীর বৈবাহিক আত্মীয়তা তৈরি হয়েছে, তখন মুসলিমগণ উক্ত গোত্রের যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি দিতে শুরু করলেন। এভাবে, জুয়াইরিয়ার সাথে মুহাম্মদ (সঃ)র বিয়ে ইতোপূর্বে তার দ্বারা বন্দী হওয়া প্রায় শত পরিবারের মুক্তির কারণ হয়ে উঠলো।

৯। উম্মে হাবিবা (রা.) : মহানবী (সা.)-এর চাচা আবু সুফিয়ানের কন্যা। প্রথমে উবায়দুল্লাহ বিন জাহালের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দুজনই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আফ্রিকার হাবশায় হিজরত করেন। কিন্তু সেখানে উবায়দুল্লাহ খ্রিস্টান হয়ে যান। উবায়দুল্লাহ থেকে উম্মে হাবিবাকে মুক্ত করতে তিনি হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশির মাধ্যমে চাচাতো বোন উম্মে হাবিবা (রা.)-কে বিয়ে করেন।

১০। রামালাহ বিনতে আবী-সুফিয়ানঃ তিনি উম্মে হাবিবা নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানের কন্যা ছিলেন এবং পিতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিনি মুসলিম হন। আবিসিনিয়ায় হিজরতকারীদের মধ্যে তিনি একজন ছিলেন। হিজরতের পর তার স্বামী খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন, অপরদিকে তিনি ইসলামে অনড় থেকে যান। হিজরতে থাকাকালীন সময়ে তার স্বামীর মৃত্যু হলে মুহাম্মাদ তাকে বিবাহের প্রস্তাব পাঠান। মুসলিমদের সাথে কুরাইশদের যুদ্ধ নিরসনকামী হুদায়বিয়ার চুক্তির পরপরই রাসূল সাঃ সমসাময়িক ইসলামের প্রতিপক্ষ ও কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানের এই কন্যাকে বিবাহ করেন, যাতে করে মুসলিমদের সাথে কুরাইশদের তৎকালীন শত্রুতা আরও কমে আস।

১০। হযরত সফিয়্যাহ রাঃ সাফিয়া (রা.) ছিলেন নবীদেরই বংশধর। হজরত মুসা (আ.)-এর ভাই হজরত হারুন (আ.)-এর অধস্তন বংশধারার কন্যা। প্রথমে কিনানা ইবনে আবিলের স্ত্রী ছিলেন তিনি। কিনানার মৃত্যুর পর মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

১১। হযরত মাইমুনা রাঃ তিনিও হিজরত করেছিলেন। বিধবা হবার পর রাসূল সাঃ এর বিবাহে আসেন। যয়নব বিনতে জাহাল রাঃ ছাড়া বাকিরা সবাই ইসলামের শুরু যুগেই ইসলাম কবুল করেন। তারপর কাফেরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাধ্য হয়ে মাতৃভূমি ত্যাগ করে পরবাসে চলে যান। কিন্তু সেখানে তাদের স্বামীগণ ইন্তেকাল করলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েন। কোথায় যাবেন? কার কাছে যাবেন? আপন বাড়িতে ফিরে গেলে কাফির আত্মীয় স্বজন অত্যাচার নিপিড়ন করে ধ্বংস করে ফেলবে। এরকম অসহায় হালাতে পড়া নারীদের রাসূল সাঃ স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে সম্মানিত করেন।

InfotakeBD

View posts by InfotakeBD
InfotakeBD is a information sharing blog, We share information for you. Please visit us and if you want to contribute for this blog please email us infotakebd@gmail.com. Thank you

Leave a Reply

Scroll to top