কম্পিউটারের প্রজন্ম (Computer Generation)
কম্পিউটার এমন্ একটি যন্ত্র যা প্রতি নিয়ত পরিবতর্নশীল। কম্পিউটর জেনারেশন বা প্রজন্ম বলতে এর প্রযুক্তিগত বিবর্তনকে বুঝায়। কম্পিউটার বিবর্তনের অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম কেও বর্তমানে চরমশিখরে আরহন করছে।কম্পিউটারের এক একটি যান্ত্রিক পরিবর্ত ও উন্নয়ন বৈশিষ্ট্যেও উপর ভিত্তি কেও প্রজন্মকে ভাগ করা হয়েছে। ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে -মার্ক-১ (Mark-1), ইনিয়াক (ENIAC), ইউনিভেক (UNOVAC), এডভেক- (ADVAC), এডসেক (EDSAC) ইত্যাদি।
দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (Second Generation) ১৯৬০-১৯৬৩:
ভ্যাকুমটিউবের পরিবর্তে ট্রানজিস্টও ব্যবহার করে যে কম্পিউটার গুলো তৈরী করা হয় তাকে দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার বলে। আমেরিকার বেল ল্যাবরেটরিতে উইলিয়াম বি. শকলী (Wiliam B. Shokly),জন বার্ডিন (John Berdeen) এবং এইচ. বৃটেন (H. Bratain) সম্মিলিত ভাবে ট্রানজিস্টর তৈরি করেন। ট্রানজিস্টর আবিস্কার হওয়ার পর কম্পিউটারের জগতে নতুন সম্ভাবনা দ্বারা উন্মুক্ত হয়। এ প্রজন্মের কম্পিউটার গুলো আকার আকৃটির দিক থেকে ছোট এবং কম বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যবহার হত । বাংলাদেশে ১৯৬৪ সালে সর্বপ্রথম পারমানবিক শক্তি কেন্দ্রে এ প্রজন্মের IBM 1620 কম্পিউটার দিয়ে যাএা শুরু হয়।দ্বিতিয় ঈস্খৎন্মেও কম্পিউটার গুলির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- IBN-140, RCA 501, CDC 1604, BCR 300 ইত্যাদি ।
দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য মসূহ নিম্নে আলোচনা করা হল-
- § ট্রানজিস্টরের ব্যবহার।
- § ম্যাগনেটিক ড্রামের পরিবর্তে ম্যাগনেটিক কোর মেমরির ব্যবহার।
- § সহায়ক স্মৃতি হিসেবে ম্যাগনেটিক ডিস্কের উদ্ভাবন।
- § মেশিনের ভাষার পরিবর্তে উচ্চস্তরের ভাষার প্রচলন।
- § টেলিফোন লাইন ব্যবহার করে ডেটা প্রেরণ।
- § আকার আকৃতি অনেক ছোট।
- § উচ্চগতি সম্পন্ন নিভৃরশীল।
- § ইনপুট-আউটপুট ব্যবস্থার প্রচলন।
তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (Third Generation) ১৯৬৪-১৯৭০:
ইন্ট্র্রিগে্র্রেটড সার্কিটের বা আইসি(IC) এর মাধ্যমে তৈরীকৃত কম্পিউটারকে তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার বলে। রবার্ট নইসি (Robert Noyce) ও জ্যাক কিলবি (Jack Kilby) সম্মিলিত ভাবে অনেক গুলো ট্রানজিস্টর ও অন্যান্য উপাদান ক্ষুদ্র সিলিকন পাতের উপর বসিয়ে ইন্ট্রিগ্রেটেড সর্কিট তৈরী করেন। ফলে কস্পিউটারের আকার আয়তন ছোট হয়ে যায়, কার্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং প্রিন্টারের সাহায্যে পিন্ট করা যায়। দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার গুলির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে–IBM-360, 370, PDP II ইত্যাদি।
তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য সমুহ নিম্নে আলোচনা করা হ‘ল-
- § ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের ব্যবহার (IC)
- § লাইন প্রিন্টারের ব্যবহার
- § আউটপুট ডিভাইস হিসেবে ভিডিও ডিসপ্লে প্রচলন।
- § উচ্চস্তরের ভাষার বহুল ব্যবহার ।
- § আকারের ছোট কিন্তু দ্রুতগতি সম্পন্ন।
- § দাম কম হওয়ার কারনে বহুল ব্যবহার।
- § অর্ধপরিবাহী স্মৃতির ব্যবহার।
- § মিনি কম্পিউটারের যাত্রাশুরু।
চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার (Forth Generation) ১৯৭১ – বর্তমান:
মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার দিয়ে চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার এর যাত্রা শুরু । ১৯৭১ সালে আমেরিকার জন ব্ল্যাংকেন বেকার সর্বপ্রথম মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে কেনব্যাক (Kenbak) নামক মাইক্রোকম্পিউটার তৈরী করেন । আইবিএম ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য মাইক্রোকম্পিউটার প্রস্তুত করে বাজারজাত করে। এ প্রজন্মে কম্পিউটার সমুহ আকার আকৃতিতে ছোট কিন্তু কাজের গতি অনেক বেশি। চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার গুলির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- IBM-3033, 4341, TRS 40 ইত্যাদি।
চর্তুথ প্রজন্মের কম্পিউটার সমুহরে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে
- § মাইক্রোপ্রসেসরের ব্যবহার।
- § কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রচলন।
- § ট্রানজিস্টর গুলোতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার।
- § মানুষের কন্ঠসরের মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান।
- § উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন বাবল মেমরির ব্যবহার।
- § সুপার কম্পিউটারের উদ্ভাবন।
পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার (Fifth Generation) :
সর্বাধিক ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটার হবে পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার । Super VLSI (very large scale intergration) চিপ ও অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার তৈরী হবে। এই প্রজন্মের কম্পিউটার মানুষের কণ্ঠস্বর বুঝতে পারবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে পারবে। পঞ্চম প্রজন্মে কম্পিউটারে নেটওয়াকিং ব্যবস্থায় প্রভুত উন্নতি সাধিত হয়েছে।
পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার সমুহরে গুরুত্বপূর্ন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-
- § অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোপ্রসেসর।
- § কৃত্রিম বুদ্ধি ব্যাপক ব্যবহার।
- § চুম্বক কোর স্মৃতির ব্যবহার।
- § অধিক ক্ষমতার সম্পন্ন সুপার কম্পিউটার।
- § তথ্য ধারণ ক্ষমতার ব্যাপক উন্নতি।
- § প্রোগ্রামিং এর অভাবনীয় সাফল্য।
- § স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ ও গ্রহনযোগ্য শব্দদিয়ে কম্পিউটারের সাথে সংযোগ।